My লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
My লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০০৯

রোমেল এবং লিভ-টুগেদার - সহাবস্থান? নাকি সহ-বাস?

রোমেল এবং লিভ-টুগেদার - সহাবস্থান? নাকি সহ-বাস?: "রোমেল অসুস্থ, দুদিন দোকানে আসেনা, তাই ঠিকানা নিয়ে গেলাম বাসার খোঁজে। নিম্নবিত্তদের এলাকা, গলি ঘুপচি পেরিয়ে কোনমতে খুঁজে পেলাম। দরজার দুটো ঘুসি মেরে দাঁড়াই, খোলবার অপেক্ষায়।



দরজা খুলতেই একটু অপ্রস্তুত হলাম, দরজা খুলছে একটা মেয়ে এবং আদিবাসী - রোমেলের চৌদ্দ পুরুষ বাঙালি এবং বরিশাইল্যা বলে জানি, এটা কে? মেয়েটাকে আগেও দেখেছি আমার বাসার ল্যান্ডিংএ, মনে পড়লো, পাশেইতো রোমেইল্ল্যার দোকান! হুম, এই কথা! বান্ধবী জুটেছে সেবাযত্নের জন্যে!



ব্যাটাকে দেখতে এসেছি শুনে ভেতরে যেতে দিলো। গিয়ে দেখি শালা মহা আনন্দে মুরগীর হাঁড় চিবোচ্ছে । আরেক ধাক্কা! হাস্যোজ্জ্বল রোমেলের ঘরটা বেশ সাজানো গুছোনো, ঠিক বিবাহিত মানুষের মত, মানে ছন্নছাড়া ব্যাচেলর আর বিবাহিত মানুষের ঘরের যা পার্থক্য তাই চোখে পড়লো। মেয়েটাও বেশ নিজের সংসারের মতই গিন্নিপনা করছে, খেতে অপরাগতা জানালে একটু মন খারাপ করলো, কৈলাম , 'চল মামু, চা গিলি।'



একটাই খটকা, শালার বাচালটা বৌর সাথে পরিচয় করায়না ক্যান?



পর্দা ঘেরা দোকান, রমজানে বোরখা আরকি। চা খাইতে বইসা ধরলাম চাইপা, 'কি মামু! শাদি করলা কওনাই ক্যান?' হ্যাটা হাসে, 'আরে মামু, আমারে বিয়া করবো কেডা? মাস গেলে পাই ছয় হাজার ট্যাকা, ফকিরের মাইয়া ছাড়া কেডায় মালা দিবো গলায়?' কৈলাম, 'সাইড কাইটো না মিয়া, গুঁতা খাইবা।'



ঝুলি খুললো রোমেইল্ল্যা, মেয়েটার সাথে পরিচয় প্রায় বছর, আদিবাসী মেয়ে, পড়াশুনা করেছে কিছুদুর, ঢাকাতে ছোটখাটো চাকরি করে কাছেই। বাবা-মা বেশ গরীব আর অসুস্থ, মেয়ের পাঠানো টাকা সংসারে বেশ লাগে, বিয়ের পরে হয়তো পারবে না, এই ভয়ে মেয়ে বিয়ে করছে না। আবার বাবা-মা আদিবাসী ছেলে ছাড়া অন্য কোন ছেলে মেনে নেবেন না জামাই হিসেবে।



রোমেলও প্রায় তাই, বাবা-মা গ্রামে, বোন দুটো বিয়ে দিতে হবে। রোমেল বড় ছেলে, ম্যাট্রিকের পরে সংসারের হাল ধরা, নানা ঘাটের পানি খেয়ে এখন ঢাকাতে, শ্রম বেঁচে, দেখতে শুনতে ভালো। ওদের পার করার যোগাড় করতেই হিমসিম, নিজের বিয়ে কবে হবে কে জানে।



পরিচয়ের পরে, ভালোলাগা, ভালোবাসা। বিয়ে নিয়ে দু'পরিবারেই সমস্যা হবে, তাই এক সাথে থাকা। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ছোট্ট ঘুপচি একটা দেড়-কামরার বাসা, দুজনের মোট আয়ের অর্ধেকটাই চলে যায় এখানে, খাওয়া পরার পরে যা থাকে দুজনার উদ্বৃত্ত, যার যার বাড়ীতে পাঠায়।



'মামু, কবে কপাল ফিরবো কে জানে, তাই লিগ্যা বয়সতো থাইমা থাকে না, দুইজনেই তাই কতা-বার্তা কৈয়া একলগে থাকি, লিপটুগেদার আরকি। ভালোবাসা করি, সময় হৈলে দিন ফিরলে বিয়াও করুম অরে।' - এভাবেই জানায় রোমেল, আমাদের রোমেইল্ল্যা, মোড়ের দোকানের কর্মচারী।



আরো নানা প্রসংগ পরে আসল কথা ওঠে, একটা কাজ ছিলো, কাজটা সেরে ফিরি পুরোনো বাসায়, এখনো এটা আমার জিম্মায়, শেষ কিছু ছোটখাটো কাজ সেরে রিক্সা নিই, নতুন বাসার উদ্দেশ্যে।



ফাঁকা রাস্তা, একটা চিন্তা মনে আসে, লিভ-টুগেদার, বাংলাটা কি হবে? সহাবস্থান ? নাকি সহ-বাস?



(ব্যাপক ফাউল পোষ্ট, মাইর দিতে চাইলে ঈদের দিনে শিডিউল দেন, হাজির হৈয়া যামু, বৈদেশিরা ভিসা ছাড়া শিডিউল দিলা আইবার পারুম না।)



পূর্ব প্রকাশ : আমার আস্তানা"

ছায়াছবি- নিউ ইয়র্ক

ছায়াছবি- নিউ ইয়র্ক: "null

নিউ ইয়র্কে ঘটে যাওয়া ৯/১১ এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এফবিআই বারশত বিদেশী বংশোদ্ভূত নাগরিককে অবৈধভাবে হরণ করে, নির্বাসনে পাঠায় আর প্রায় তিন বছর ধরে অমানবিক নির্যাতন করে।সরকার তাদের কারোরই কোন যোগসূত্র খুঁজে পায়নি এই ঘটনার সাথে। এমনকি তাদের মধ্য থেকে এক হাজার জনের বেশি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীরা ফিরে আসতে পারেনি তাদের স্বাভাবিক জীবনে। জুন ২০০৬, জর্জ বুশ বলেন যে- আমি অত্যাচারের নির্দেশ কখনও দেইনি, আমি কখনই অত্যাচারের নির্দেশ দেব না।এই দেশের মূল্যবোধ এমন যে- অত্যাচার আমাদের আত্মা ও অস্তিত্বের অংশ নয়। ২২ শে জানুয়ারী ২০০৯, আমেরিকার রাষ্ট্রপতির আসনে উপবিষ্ট হবার দুই দিন পরই বারাক ওবামা অত্যাচার ও নির্বাসনের কুখ্যাত প্রতীক গুয়ান্টানামো কারাগার বন্ধের নির্দেশ দেন।



এই ছিল মুক্তিপ্রাপ্ত ছায়াছবি “নিউইয়র্ক” এর পটভূমি। কাহিনীতে যাবার আগে কারিগরি দিক নিয়ে কিছু আলোচনা করি। ছায়াছবির চিত্রাধারণ আমার কাছে খুবই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মনে হয়েছে। চিত্র ধারণ এমনভাবে নেওয়া হয়েছে যা দর্শনের পরে চোখকে বিনোদন দেয়। সম্পাদনাও ভাল হয়েছে। হিন্দি ছায়াছবির মত এই ছবিতেই গান ছিল তবে পার্থক্য এই গানগুলোকে নেপথ্যে ব্যবহার করে ছায়াছবির বাস্তব ভাবমূর্তিকে বলবৎ করা হয়েছে। ছায়াছবির পরিচালক কবির খান পরিচালনার দক্ষতায় সফল বলতে হবে। আদিত্য চোপড়া আর ইয়শ চোপড়ার প্রযোজনায় একটি ব্যবসা সফল ছায়াছবি। ছায়াছবির কাহিনী লেখেছেন সন্দীপ শ্রীবাস্তব। ছায়াছবির প্রথম দিকে ক্যাটরিনাকে একটু বেশি উচ্ছল তরুণী মনে হয়েছে যা ভাল লাগেনি। তবে পরবর্তীতে বিবাহিতা এবং মায়ের চরিত্রে তাকে খুব ভাল লেগেছে। জন আব্রাহাম ও নীলের অভিনয় ভাল লেগেছে। ভাল লেগেছে ইংরেজীর উচ্চারণ নিয়ে মার্কিন অফিসার আর ইরফান খানের সংলাপ। সব গানই ভাল।“তু নে জো না কাহা”- গানটি সব থেকে ভাল লেগেছিল। চলুন- এবার কাহিনীর পথে যাই।



সমীর(জন আব্রাহাম) একজন মুসলমান, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকার নাগরিক কিন্তু মনেপ্রাণে আমেরিকান। তেমনি মায়া(ক্যাট্রিনা কাইফ)- সামীরের সহপাঠিনী। তাদের সাথে যোগ দেয় সদ্য ভারত থেকে পড়তে যাওয়া আরেকজন- ওমর(নীল নিতিন মুখেশ)। তারা নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। ছায়াছবি শুরু হয়- এফবিআই এর একটি অপারেশন দৃশ্যের মাধ্যমে। রাস্তায় একটি ট্যাক্সিকে পাকড়াও করে তারা। গাড়ীতে পাওয়া যায় অবৈধ অস্ত্র। গাড়ির মালিক ওমরকে এর রেশ ধরে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় এফবিআই ইন্টারোগেশন সেলে।জিজ্ঞাসাবাদে ওমর তার শুরুর দিকে দিনগুলীর কথা বলে যায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত অফিসার রোশনের(ইরফান খান) কাছে। ফ্ল্যাশ ব্যাক করে নিয়ে যাওয়া হয় ওমরের ভার্সিটির প্রথম দিনের সকালে। সেখানে পরিচয় হয় মায়ার সাথে, সমীর সাথে। সে দুর্বল হয়ে পড়ে মায়ার প্রতি। কিন্তু একসময় প্রকাশ পায়- মায়া সামীরকে ভালবাসে। এই অপ্রত্যাশিত শক সে সহ্য করতে পারেনি। সেই সময়ে ঘটে ৯/১১ হামলা। আর সেই সময়েই শহর ছেড়ে চলে যায় ওমর।



সমীর এসাইনমেন্টের জন্য টুইন টাওয়ারের বিভিন্ন এংগ্যালের ছবি তুলেছিল। তার প্রফেসরই তাকে এই কাজ দিয়েছিলেন। কিন্তু এই অপরাধে সন্দেহের বশে গ্রেফতার হয় সমীর। তাকে নিয়ে যাওয়া চোখ-মুখ বেঁধে। শুরু হয় অত্যাচার। নগ্ন করে রেখে দেওয়া হত। গলায় কুকুরের মত বেল্ট বেঁধে কুকুরের মত থাকতে দেওয়া হত। হাত উপরে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হত। মুখে কাপড় বেঁধে তার উপর প্রস্রাব করে টয়ল্যাটে ফেলে রাখা হত। এমনই বর্বর ছিল সে অত্যাচার। প্রাকৃতিক কাজ সারতে দেওয়া হত না- চাপ আসে তো কাপড়-চোপড়ে করে নিতে বাধ্য করত। গালি দিত- তোর মা বেশ্যা, তোর বোন বেশ্যা। (এই কাহিনী সাইড পটে আরেকজন বন্দীর জবানীতেও এসেছে।) একদিন পাশের সেলের এক বন্দী ধীরে ধীরে বলে- বেরিয়ে দিয়ে যদি নিজের অপমানের বদলা নিতে চাও তো যোগাযোগ কর। একসময় সমীর মুক্তি পায়। কিন্তু স্বাভাবিক জীবনে সে ফিরতে পারে না। মায়া তখন তার পাশে দাঁড়ায়- বিয়ে করে তারা। তাদের সংসার হয়। আর ওদিকে সমীর জড়িয়ে পড়ে সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে- নিজের অপমানের প্রতিশোধ নিতে। এই খবর চলে যায় এফবিআইয়ের কাছে কিন্তু কোন প্রমান নেই। তাই তারা নাটক সাজিয়ে গ্রেফতার করে ওমরকে।



ওমরের কাছে প্রকাশ হয়ে যায় এফবিআইয়ের নাটক। তারা স্বীকার করে এবং তাদেরকে সাহায্যের জন্য হুমকি দেয়। একসময় বন্ধুকে সাহায্য করার কথা ভেবে ওমর রাজি হয়। এভাবেই সাজানো নাটকে সে ফিরে যায় সমীর ও মায়ার কাছে। চলতে থাকে নাটকের অভিনয়- সমীরের পরিকল্পনা বের করার জন্য। একসময় ওমর সফল হয়। ওমরের উদ্দেশ্য মায়াও জানতে পারে। সমীরকে প্রাণে মারা হবে না এই ওয়াদায় সমীরকে ফিরিয়ে আনতে এবং পরিকল্পনা থেকে দূরে সরাতে মায়া রাজি হয়। সমীর তখন এফবিআই সদর দপ্তরে হামলার চূড়ান্ত পর্যায়ে। মায়াও সেই সময়ে সদর দপ্তরে এফবিআইয়ের ওয়াদার কাগজ নিতে। কিন্তু ওমরের কাছে তখন ধরা পড়ে সমীর হামলা করবে। বন্ধুকে এই কাজ থেকে বিরত রাখতে আর ভয়াবহ হামলা থেকে বাঁচাতে সে জানিয়ে দেয় রোশনকে। মূহুর্তেই চারিদিক থেকে নিরাপত্তাকর্মীরা ঘিরে ফেলে। ওমর তখন ছুটে যায়- সমীরের কাছে।সব কথা তাকে খুলে বলে । তাকে ফিরে আসতে বলে। মায়াও সেখানে চলে আসে। চলে আসে রোশন। ওদিকে হেলিকপ্টারে করে পজিশন নেয় আরও স্ন্যাইপার। সাথে এফবিআইয়ের প্রধান অফিসার। সমীরকে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও শেষ রক্ষা হয় না। রোশনের মানা সত্ত্বেও প্রধান অফিসারের হুকুমে গুলির মুখে মারা যায় সমীর, মারা যায় মায়া।



……………..এই হলো মূল কাহিনী। আরও কিছু সাইড পটে বন্দীদের অত্যাচার আর সেই অত্যাচারের প্রভাব ফুটে উঠেছে। ছায়াছবিতে ফুটে উঠেছে- নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার, বিচার বহীর্ভূত নির্বাসন- ঘৃণারই জন্ম দিয়েছে। সমীরের মত সাদা মনের মানুষকে জঙ্গী হতে বাধ্য করেছে। একজন জঙ্গী হলে তো সকল জঙ্গী হয়ে যায় না। কিন্তু এফবিআইয়ের ভুল নীতি সমীরের মত মনে-প্রাণে আমেরিকানকে বিপথে ঠেলে দিয়েছে।রোশন আর ওমরের কথোপকথনে কিছু বিশেষ দিক উঠে এসেছে। ওমর রোশনকে বলেছিল- আপনারাই বানিয়েছেন সমীরকে সন্ত্রাসী। নির্বাসনে থাকার পরে একজন মানুষ আর তার পূর্নের অবস্থায় যেতে পারে না। তখন রোশন বলেছিল- অত্যাচারের বদলা নিয়ে সন্তাসী হওয়া তো বিচার হতে পারে না। তুমি আর আমি মুসলমান। ইসলাম শান্তির ধর্ম, বাস্তবেও যা কিছু শান্তির পক্ষে সেখানে ইসলাম। হ্যাঁ এই দেশ(আমেরিকা) অনেক ভুল করেছে। আমাদেরকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু এই দেশের অনেক ভাল দিক আছে যা আমাদের ভুললে চলবে না। আমি এক মুসলমান- মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও এই স্পর্শকাতর মামলা আমার কাছে সঁপা হয়েছে।একমাত্র এই দেশে তা সম্ভব। একথা ভুলে যেওনা তুমি আর আমি এখানে অভিবাসী হয়ে এসেছিলাম- এখানে আপনাদের জায়গা হয়েছিল, নিজেদের স্বাধীনতা পেয়েছিলাম আমরা।সেই স্বাধীনতাকেই বাঁচাতে আজ আমি এসব করছি। মুসলমান্দের বিপক্ষে যে ঘৃণা এই দেশে বা অন্য দেশে জন্ম নিচ্ছে তাকে সম্মানে বদলে নেবার কাজ আমাদের মুসলমানকেই করতে হবে। ..................



শেষ অংশে ওমর আর রোশনের সংলাপও গুরুত্ববহন করে। সমীর আর মায়ার ছেলে প্রতিযোগীতায় খেলছিল। রোশনকে দেখা করতে আসে। কথাপ্রসঙ্গে রোশন ওমরকে বললো- তুমি আর আমি সমীরকে মারিনি। সমীর যে পথে বেছে নিয়েছিল তাই তাকে মেরেছে। ওমর জবা দিলো-“ কিন্তু মায়া? তার কি দোষ ছিল?” দোষ কারোরই ছিল না- সবাই সবার জায়গায় ঠিক ছিল। শুধু সময়টাই ছিল খারাপ। খারাপ সময়ে মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, দেশ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়- তাই হয়েছে। ওমর আবার জিজ্ঞেস করে- “কি মিললো আমায় আপনার এই অপারেশনে? আমার দুই বন্ধুর মৃত্যু আর আপনার জন্য একটি মেডেল। কি প্রাপ্তি হলো? যেদিন আপনার কাছে এর জবাব মিলবে সেদিন কথা বলবো”। রোশন বললো- “জবাব তো তোমার সামনেই।এক আমেরিকান দলে মুসলমান বাচ্চা খেলছে যার বাবা ছিল সন্ত্রাসী। আর ঐ ছেলেকেই এরা কাঁধের উপরে হিরোর মত তুলে রেখেছে।আমরা এটুকুই পেয়েছি। এই আমাদের প্রাপ্তি।



ছায়াছবিটি শিক্ষামূলক- আমেরিকানদের জন্য আর মুসলমান্দের জন্যও। যে মেসেজ ছায়াছবিটি দিতে চেয়েছে তা দিতে সফল হয়েছে- এই ছায়াছবির সফলতাই তাই বলে।

"

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০০৯

আহ্ নারী ! ওহ্ নারী ! উফ্ নারী ! ... ... ... হায় নারী !!!

নারী বন্দনায় কোন কালেই, কোন কথা সাহিত্যিক ছাড় দেননি একরত্তি; সে দেশে হোক বা বিদেশে। পায়ের নখ থেকে শুরু করে চুলের ডগা অব্দি চুলচেরা বিশ্লেষণে কবিকূল ব্যতিব্যস্ত থেকেছেন যুগের পর যুগ। যারা লিখতে জানেন না তাদের মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে নারী বন্দনার সেসব হাজারো পংক্তিমালা। হাজার বছর ধরে হেঁটে বেড়িয়েছে কেবল বনলতা সেনের রূপসূধা পানের তৃষ্ণায় কাতর কোন পথিক! নারী অপ্সরী; নারী প্রেমিকা; নারী আরাধ্য; নারী দেবী!

খু্‌বই সাম্প্রতিক খবর; যশোহরের নওয়াপাড়া জুট মিলে কোন নারী শ্রমিককে স্থায়ী শ্রমিকরূপে নিয়োগ দেয়া হচ্ছেনা। অস্থায়ী নারী শ্রমিকেরা সর্দারদের ২০/২৫ টাকা ঘুষ দিয়ে কাজ পায় বটে কিন্তু আট ঘন্টার কাজের পারিশ্রমিক মোটে ৬২ টাকা! বেতনভাতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে চাকরী খুঁইয়েছে বেঙ্গল টেক্সটাইলের নারী শ্রমিক দিপু।আট ঘন্টার বদলে ষোল ঘন্টা কাজ করে রিজিয়া পায় ৮০ টাকা; সেখানে একজন পুরুষ কর্মী পায় ১২০ টাকা! এলাকার বেশীর ভাগ কারখানাগুলোতে মাতৃত্বকালীন ছুটি পদ্ধতি মানা হয়না! [খবর সূত্র: পৃষ্ঠা-১৬, দৈনিক ইত্তেফাক, ২৫শে অগাস্ট ২০০৯

নারী-পুরুষের প্রাকৃতিক, বাহ্যিক গড়নের পার্থক্য নারীকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশী বেশী নারী করে তোলে। নারী কোমল; নারী পেলব! মেয়ে-ছেলে বা মেয়ে-ছাওয়াল অর্থ্যাৎ নারী হয়ে ওঠার সাথে সাথে বাটোয়ারা হয় কাজে-কর্মে, দ্বায়িত্ববোধে, অধিকারে, জবাবদিহিতায়, দাবিতে, পারিশ্রমিকে ।

অহরহ নারীর উপর খড়গ নেমে আসে ধর্মীয় রীতির, সামাজিক নীতির আর পারিবারিক রেওয়াজের এবং এই পুরো অংশে দোর্দণ্ডপ্রতাপে আধিপত্য বিস্তারকারীরা আর কেউ নয় বরং নারী বন্দনায় নিবেদিত প্রাণ পুরুষকূল। পুরুষেরা সযত্নে নারীর চারপাশে এঁকে দেয় লক্ষণ রেখা! গণ্ডি পার হলেই ঢিঁ ঢিঁ পড়ে যায়! আয়োজন হয় অগ্নি-পরীক্ষার। যুগ যুগ ধরে চলে সতীদাহ! এখনও ক্ষণে ক্ষণে ভেসে আসে ঊনচল্লিশটি দোর্দার আঘাতে জর্জরিত কোন রমনীর আর্তচিৎকার! হুংকারে ফতোয়াবাজ কোন পুরুষ আর নির্বাক দর্শকের ভূমিকায় নপুংসক সমাজ। নারী কুলটা! নারী নষ্ট! নারী বাজারে কেনা-বেচার অধিকার রাখবে কিনা সে ফয়সালা করার আগেই রঙ্গশালায় বিকি-কিনি হয় খোদ নারীই। দালাল কিংবা ক্রেতারূপে পুরুষের তৎপরতা পাশ কাটিয়ে চোখে বিঁধে কেবল স্বস্তা প্রসাধনীর প্রলেপে আবৃত নারী। নারী পতিতা; নারীই ছিনাল! 

যুগে যুগে নিয়মনীতির ফাঁক-ফোকড় গলে কিছু নারী উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে নারীকূলকে রক্ষা করেছেন। ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল, মাদার তেরেসা কিংবা ভেলরী - নারীর মমতার আশ্রয়ে পুরো বিশ্ব । নারী সেবিকা ! রণক্ষেত্রে নারীর রূদ্রমূর্তি বধ করেছিল শত্রুপক্ষকে। চাঁদ সুলতানাকে নিয়ে কবি নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, ”শিখালে কাঁকন, চুড়ি পরিয়াও নারী, ধরিতে পারে যে উদ্ধত তরবারী”। নারী রণরঙ্গীনি ! বেগম রোকেয়া ভেঙ্গে দিয়েছিলেন নারীর উপর চাপিয়ে দেয়া কুসংস্কার। নারী অন্ধকারে আলোর দিশারী! নারী জ্ঞান-পিপাসু!

নারী অবাধ্য হয় কখনো। নারী ছন্নছাড়া হয় কখনো। নারী তোয়াক্কা করেনা নারীসূলভ জীবন-যাপনের। নারী আঙ্গুল তুলে বসে পুরুষের দিকে। নারী হয়ে যে কথা বলা একেবারেই জায়েজ নয়, নারী তাই বলে বসে সদম্ভে! ভ্রষ্টা নারীর নষ্ট গদ্যে নারীর আরেক পরিচয় দাঁড়ায় তসলিমা নাসরিন!

সংকীর্ণমনা পুরুষ বলে ওঠে ”সুরঞ্জনা, ওইখানে যেওনাকো তুমি, বলোনাকো কথা ওই যুবকের সাথে” । অবশ্য নারীও ধোঁকা দেয় নয়তো নারী হিসেবি হয়ে ওঠে চাওয়া-পাওয়ায়। নারী বরুণা হয়ে খুঁজে নেয় জীবনে অর্থ আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। পুরুষের নাম নিজের নামের আশেপাশে জুড়ে নারী পূর্ণতা খুঁজে পায় সমাজের বেঁধে দেয়া নিয়মে। পৃথিবীর আধেক সূধীজন নারীকে দেবে আশীর্বাদ- নারী বাস্তববাদী, নারী সংসারী! আর আধেক দেবে অভিসম্পাত- নারী ছলনাময়ী! 

পুরুষের লোলুপতার শিকার নারী হরদম। নারীকে রক্ষায় আইন! সম্ভ্রমহানীর প্রতিবাদে মিটিং-মিছিল। প্রতিবাদের স্বর জোড়ালো হয় পুরুষের কারণেই! নারী যে অবলা! 

অথবা নারীই দোষী! কেউ ”দেখালে” অন্যেরা ”দেখবে” না কেন! তাই সমস্যার একমাত্র সমাধান- নারীকে ঢেকে ফেলো আপাদমস্তক! অথচ পুরুষের দৃষ্টির কলুষতা, নিয়তের স্খলণ নিয়ে কেউ ভ্রুকুটি করেনা! কুকর্ম করছে পুরুষ, সামলানো হচ্ছে নারীকে! 

নারীকে বাগে রাখতেও আইন! পূণ্যভূমি আরবে বিচারক, স্বামীকে অধিকার দিলেন অমিতব্যয়ী স্ত্রী’র গায়ে হাত তোলার! আফগান সরকার আরো এক কাঠি সরেস! নব্য খসড়া আইন বলে দেয় ২০০৯ সালেও নারীর জন্যে আসলে কিছুই বদলে যায়নি! আফগান নারীকে ঘরের চৌহদ্দির বাইরে যেতে হলে স্বামী নামক পুরুষটির অনুমতি নিতে হবে। এমনকি স্বামীর অনুমতি ব্যতীত চাকরী, শিক্ষা বা চিকিৎসকের কাছে যাওয়া আইন বহির্ভূত ! সন্তানের অভিভাবক হিসেবে নারী নয়, কেবল চাই পুরুষের নাম! তদুপরি স্বামী তার শারীরবৃত্তিয় চাহিদা পূরণে অবজ্ঞাকারী স্ত্রী'কে শাস্তিস্বরূপ অভূক্ত রাখার পূর্ণ অধিকার বহন করে! নারীই কেবল ভোগ্য! নারীর উপভোগ্য বলে কোন স্থান-কাল-পাত্র নেই!

নারী কোথায় যাবে! মৃত্যুর পরে কি নারী তাবৎ ঝুট-ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবে? পুরুষের জন্যে জান্নাতে আয়তলোচনা হুরপরীরা ব্যতিব্যস্ত থাকবে, এই বলে বলে মসজিদের ঈমাম পুরুষদের ঈমান সবল করেন! আহ! ইহকাল আর পরকাল - দু’কালেই নারী-ভাগ্য নিয়ে জন্মেছে বটে পুরুষ! নারী কেবল চরণ-দাসী! 

নারীকে নিয়ে রঙ্গ! নারীকে নিয়েই ব্যঙ্গ! নারীর উপর ক্ষোভ! নারীতেই আবার প্রীতি। যুগ বদলেছে। রুচি পাল্টেছে। বদলে যাচ্ছে পুরুষ। বদলে যাচ্ছে নারী। নারীকে বদলে দেয়ার মিছিলে শরীক খোদ পুরুষ! পুরুষই বাতলে দিচ্ছে এখন নারীকে বদলাতে হবে! পুরুষই মাপ-ঝোঁক করছে কতটুকু বদলাতে হবে! নারী কি বোধহীন! নারী কি স্বল্প বুদ্ধির অধিকারীনি! 

বাসে ছয়টি মহিলা-সিট্ পেলেই নারী অধিকার সংরক্ষিত হয়না একথা কবে বুঝবে নারী! নারীর অধিকার নারীকেই আদায় করে নিতে হবে, নারী বদলাবে কি বদলাবে না, কতটুকু বদলাবে, তার মাপকাঠি নিজের হাতে না রাখতে পারলে কিসের আধুনিকতা তবে! নারী নির্যাতন আইন করলেই নারীর প্রতি অসম্মান বন্ধ হয়ে যাবেনা। নারীকেই বলতে হবে চিৎকার করে , ”বিচার চাই ওই কুলাঙ্গারের”...! 

প্রকৃত অর্থে স্বাবলম্বী হও নারী। 

জাগো, নারী জাগো বহ্নি শিখা ...!









link| http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/28999741