: ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩নোবেল ভাইর সাথে তার বন্ধুত্ব হতে বয়সটা তেমন বাঁধা হয়ে দাড়ায়নি। সামনা সামনি বাসা, অবসরে হাই হ্যালো থেকে কখন যে তা রাত জেগে ভোর হওয়া আড্ডায় রূপ নিল তা এখন আর তার মনে পড়ছেনা। তিন বছরের বড় হলেও ব্যবধান কমে তা পৌঁছে গিয়েছিল রাত জেগে সিগারেট পোড়ানোয়।নোবেল ভাই মার্কেটিং এ পড়ত চবিতে।ছেলেটির রাজ্যের সব বিষয়েই আগ্রহ। ইকোনোমিকস থেকে সেলস মার্কেটিং সব বিষয়েই। ইন্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন থাকায় সিএসইতে পরে ভর্তি হলেও তার আগ্রহ জগতের সব বিষয়েই ঘুরে বেড়াই। নোবেল ভাই তাকে শিখান সেই সেরা সেলস ম্যান যে একজন এস্কিমোর কাছেও ফ্রীজ বিক্রী করতে পারবে। শেয়ার বাজার থেকে বাজেট, আরও কত কি।এই আড্ডায় ছেদ পড়ল ছেলেটির অন্য ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে চিটাগং ছাড়াই। তবুও ভেকেশনে জমত তাদের রাত জেগে আড্ডা। এমনি এক ভেকেশনে নোবেল ভাই তাকে জানাল তিনি প্রেমে পড়েছেন। ওয়াও বলে ব্যাপারটাকে স্বাগত জানাল সাথে সাথে ছেলেটি। আর কত কি, কেমনে হল সব বলতে বলতে রাত কে ভোর করে দিলেন নোবেল ভাই। পরিশেষে দিলেন আরেকটি খবর, মেয়েটির এক বান্ধবী আছে, সমস্যা হল প্রতি ডেট এই সে সাথে চলে আসে। ধনীর দুলালী, দেখতে শুনতেও ভালই ;)তার পরেই নোবেল ভাই তাকে প্রস্তাব দিয়ে বসলেন তোমার নাম্বার মেয়েটিকে দিয়ে দিব নাকি। ধূর মিয়া আমারে দিয়া ঐ সব হইবনা :( , বলেই ছেলেটি কিছুটা পাশ কাটাল। মনে মনে কি চেয়েছিল সেটা আজ আর তার মনে নেই।জুবুথুবু এক শীতের বিকেলে ছেলেটি নিজের রূমে বসে বসে গান শুনছিল। সদ্য মুক্তি পাওয়া সাঁথিয়া মুভির গান। বিবেক আর রানীর সেই প্রেম তার মনে ও কেমন যেন বাসন্তী হাওয়া এনে দিয়েছিল, আহা এমন যদি হত, খুনসটি করতে করতে রানী বিবেকের পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াই। ছেলেটির ভাষায় সত্যিই আমি তাই ভাবছিলাম। দুস্টু প্রেমের মিষ্টি এই ছবির গান দেখে সে সারাদিন বসে বসে। অমনি এক শীতের আরেক বিকেলে শুভ সূচনা হল ছেলেটির উড়ু উড়ু মনের মিষ্টি কল্পনার।হঠাৎ করে বেজে উঠেছিল মোবাইল ফোন, অপরিচিত এক নম্বর। রিসিভ করতেই সুরেলা কন্ঠে ,কেমন আছেন। ভাবনার রং বাস্তবে এত দ্রুত রং ধনু ছড়াবে , এমনটি সে কখনো ভাবেনি , এখনও ভাবেনা। তার মাথায় ঢুকে থাকা সাঁথিয়া মুভির গান গুলোই রংধনুর আবেশ এনে দিল।মাঝে মাঝে কথা হয়, নোবেল ভাইর কাছ থেকে নাম্বার পেয়ে তাকে এই ফোন করা মেয়েটির, কথা হয় সময় গড়াই। ছেলেটির কখনো ফোন করা হয় না। জোয়ারে তেমন গা ভাসানো তার হয়ে উঠেনা, তবুও মন ভাবে তারে গানটি বেজে চলে সব সময়।সাত টাকা রেটে মোবাইলে কথা , তিনশ টাকার একটি কার্ডে একুশ দিন চলা, বাস্তবতা তার আকাশের রংধনুকে মেঘ দিয়ে ঢেকে দেয়। অবশ্য এতে তাদের কথা বলার তেমন বিরাম পড়েনা। ধনীর দুলালীরতো আর অত হিসেবের বালাই নেই।ঈদের ছুটি, নোবেল ভাই মুচকি হাসে , কি খবর কি। ছেলেটি অন্য পথে হাঁটে, লুকিয়ে রাখে নিজের মাঝে ঈদের পরদিন তার সাথে দেখা হবে এই খবরটি।ছেলেটি কিছুটা ভীতু ও বটে, ডানা মেলে উড়ার আগেই সে ভাবতে থাকে কতটুকু উড়া যাবে এক জীবনে। পরক্ষনেই নিজেকে বলে , না তোমাকে দিয়ে হবেনা- মেঘলা আকাশে রংধনু ছড়ানো , রং ছড়াতে হলে অত ভেবে ফল নেই।প্রিয় কর্ণফুলীর তীড়ে জমে উঠা প্রতিদিনকার আড্ডার প্রিয় বন্ধুদের অলক্ষ্যে সে উঠে আসে। রিক্সায় চড়ে জীবনের নতুন এক অভিগ্গতার পথে পথ চলে সে। অজানা কারো সাথে দেখা হবে, কেমন সে- রাজ্যের ভাবনা এক সাথে ভীড় করে। হাজির হয় আগ্রাবাদের সাউথ ল্যান্ড সেন্টারের নীচে। সে জানে এর উপরে আছে ক্যাফে রীজ রেস্টুরেন্ট। জীবনে প্রথম এমনটি হতে চলেছে, দুরু দুরু বুকে কিছুটা শংকিত ও সে, পকেটে আছে দুটা পাঁচশ টাকার নোট, সাথে আরও কিছু।রিক্সা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে আছে, অপেক্ষার উত্তেজনা টের পাই সে। মোবাইলে ফোন আসে। অলুক্ষনে ভাবনা আগেই উঁকি দেয়- সে কি আসবেনা ।আপনি কোথায়।এইতো আমি সাউথল্যান্ডের নীচে দাঁড়ানো। আগে থেকেই সামনে দাঁড়ানো পাজেরো ভি সিক্স এর দরজাটা খুলে যায়। আনমনা ছেলেটি চমকে উঠে , একি পাজেরো থেকে নেমে আসা মেয়েটি তার দিকেই আসছে। পনের ফিট দুরত্বে দাঁড়ানো পাজেরোর কন্যাটি আসার আগেই কত ভাবনা সে ভেবে ফেলে। প্রথমে ভাবে মনে হয়না এই সে মেয়ে, পরের ভাবনা চোখ বুলাই তার নিজের পকেটে, কিছুটা শংকিত হয় সে।আমি..............। কেমন আছেন। হুমম আমি ভাল, তুমি.......। তখনো শংকা কাটেনি তার। মাথায় ঘুরছে হাজারো চিন্তা, এর মাঝেও সাঁথিয়ার সেই গান গুলি তার মনের মাঝে উঁকি দেয়। ছেলেটি শংকিত হয়।কিছুক্ষন কথা হয়। হঠাৎ করে পাজেরোর দরজা আবারও খুলে যায়। এবার ছেলেটি একটু ভড়কে যায়। একি আরেকটি মেয়ে নেমে আসছে। ছেলেটি দ্বিধান্বিত। মেয়েটি হাসতে হাসতে এগিয়ে আসে।আমার ভাবী । আমরা বন্ধুর মত। হাই হ্যালো হয়।মনে মনে কিছুটা ক্ষেপে যায় ছেলেটি, বন্ধু হউক আর বান্ধবী হউক- আজ কেন আসতে হবে, পরক্ষনে ভাবে, ধূর আসলে আসছে, আমার কি।আইসক্রীম খাওয়া হয়, অনেক গল্প হয়, জানা হয় এমন কোন দিন নেই যেদিন মেয়েটি আইসক্রীম আর চকোলেট খায়না।ছেলেটি মনে মনে হাসে। হঠাৎ করে সে সাহসী হয়ে উঠে, সব দ্বিধা - ভাবনা হারিয়ে যায়, জমিয়ে গল্প হয়, ভাবী হন মূল সঞ্চারক।সময় গড়িয়ে চলে, বিদায় নিয়ে তারা চেপে বসে পাজেরোতে , ছেলেটি আবারো রিক্সায়। আরেক সিনিয়রের বাসার সামনে গিয়ে রিক্সা থেকে নামে।রিক্সা ভাড়া দিতে গিয়ে অক্ষত দুটো পাঁচশ টাকার নোটের দিকে তাকিয়ে বিষাদ মাখা হাসি হেসে দেয় ছেলেটি। যাক ভাবীর কল্যানে আগামী মাসে আরও দু ফ্লীম ছবি তোলা যাবে।ভায়ের রূমে ঢুকেই সে পিসি ছাড়ে। সেখানে ও জ্বল জ্বল করছে সাঁথিয়ার গানের ফোল্ডারটি। উড়ি উড়ি ঊড়ি- গানটি ছেড়ে দিয়ে গা এলিয়ে দেয় বিছানায়। স্বগোতক্তি করে উঠে , না এই আইসক্রীম প্রেমীরে এভাবে পিঠে নিয়া ঘুরা সম্ভব নয় । সিনিয়র ভাই পাশ থেকে বলে উঠেন কি বললি !! না কিছুনা।আইসক্রীমের প্রতি মেয়েটির প্রেম ধীরে ধীরে ছেলেটির সিনেমাটিক প্রেমের বিষাদময় সমাপ্তি রচনা করল।ছেলেটির সিনেমাটিক স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছিল আইসক্রীম প্রেমী মেয়েটি
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০০৯
ছেলেটির সিনেমাটিক স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছিল আইসক্রীম প্রেমী মেয়েটি
আমার প্রেমিকারা - চম্পা পর্ব
দাম্পত্য জীবনে অশান্তি, স্ত্রীই বেশি ভোগেন
জোটে যদি একটি পয়সা
[পাস করবার পরে ৩ মাস মেয়াদী একটা বেকার জীবন কাটানোর সুযোগ হয়েছিলো। একেবারেই অন্যরকম একটা সময়। ছন্নছাড়া কিছু লিখতে ছন্নছাড়া সময়ের উদাহরণের চেয়ে ভালো কিছু হয় না। :P ]
[১]
২০০৬ – জুন। আন-অফিসিয়ালী বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হল মাত্র। রেজাল্ট হয় নাই। আগামী ২০ দিনের করণীয় মনে মনে ঠিক করে ঢাকার বাসায় এসে ঢুকলাম। ৭ দিন বিশ্রাম, সাথে মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর ‘69’ নাটকের বাকি পর্বগুলো একটানা দেখে শেষ করব। বেশ কিছু জমে থাকা মুভী আছে। সিলেট থেকে আসবার আগে নাতির কাছ থেকে কমেডি সিরিজ “ফ্রেন্ডস” এর ৫টা ডিভিডি হার্ড-ডিস্কে কপি করে এনেছি। সেগুলোও দেখে শেষ করতে হবে। এর ফাঁকে কিছু সময় বের করে সিভি প্রস্তুত করব। বেশ কিছু আড্ডা পেন্ডিং আছে স্কুল বন্ধুদের সাথে। এরপরও কিছু সময় বেচে গেলে বিডিজবসে ঢুঁ মারা যাবে।
প্রথম তিনদিন-চারদিন রিপ ভ্যান উইঙ্ক্যালের মত ঘুম দিলাম। এরপর হৃষ্ট চিত্তে প্যাকেট খুলে কম্পিউটার জোড়া লাগাতে বসেছি। ফ্লোরে পড়ে আছে বড় বড় ৩ কার্টুন ভর্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের 4 বছর কারিকুলামের সব বই। প্যাকেট করা দেখলে এক ধরনের শান্তি শান্তি লাগে। তাই, ওভাবেই পড়ে থাকলো পরের ২ মাস।
কম্পিউটার লাগানোর পরপরই কুনো ব্যাঙের মত আলসে হয়ে গেলাম। সারাদিন শুয়ে শুয়ে ‘69’ দেখি। আরিফ, দিদার, মুকুল সবাই সিলেটেই এই নাটকের সেঞ্চুরী পূর্ণ করেছে। আমি ১৫-২০ পর্ব একসাথে দেখেছি। কিন্তু, পরীক্ষার মৌসুমের ২০-২৫ দিন বাকি থাকলেই রাত ১০টায় চোখ অন্ধকার হয়ে আসে। তাই, লেট নাইট শো হিসেবে ওদের সাথে দেখা হয় নাই। চমৎকার অভিনয় সবার। হাসান ভাইয়ের গান, আহমেদ রুবেলের শুচিবায়ু, তিশার ন্যাকামী এবং তিন্নির প্রেম দেখতে দেখতে সময় উড়ে যেতে লাগলো। খুব শীঘ্রই ১০০ পর্ব শেষ হয়ে গেলো। তিশার মৃত্যুতে ব্যথীত হবার চেয়ে, এরপরে কি করবো তার চিন্তায় তখন জাবর কাটছি।
ততদিনে দেড় সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। মেইল চেইক করতে বসলে মরূর মধ্যে চিকচিকে পানির মত মাঝে-মধ্যে যখন ২-১টা মেইল আসেঃ “I joined...”, আমরা হুমড়ি খেয়ে মেইল পড়ে সেই বন্ধুকে অভিনন্দন জানাই। এরপর খানিকক্ষণ নিজেকে নিয়ে চিন্তার উদ্রেক হয়। অতঃপর আবার অন্য মেইলগুলোয় ডুবে যাই।
রাতের বেলা নিবিষ্ট মনে পেঁচার জীবনকে অনুসরণ করি। বিশ্বকাপ ফুটবল’০৬ চলছে। নিজ ঘরে টিভি ২৪/৭ অবস্থান নিয়েছে। আর্জেন্টিনা ১ম রাউন্ডে তুমুল খেলছে। প্রতিবার আর্জেন্টিনা যতক্ষণ টুর্ণামেন্টে টিকে থাকে, আমি ব্রাজিলের ঘোর-বিরোধি। বাদ পড়লেই ব্রাজিল সমর্থক হয়ে যাই। মেসিকে নিয়ে বিরাট হৈ-চৈ। আর্জেন্টিনার খেলা হলেই দেখা যায় ম্যারাডোনা গ্যালারীতে বসে “মেসি, মেসি” স্লোগাণ দেয়। এই মেসিকে ভালো না লেগে যাবে কোথায়?
[২]
উষ্ণ দিনগুলো দ্রুত কেটে যেতে থাকে। থিসিস প্রেজেন্টেশনের তারিখ হয়ে গেলো। অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ ইউনিভার্সিটিতে সবাই উপস্থিত হয়ে প্রেজেন্টেশন দিয়েও এলাম। বিডি-জবস.কম পরিনত হল ব্রাউজারের হোম-পেজে।
বেকার বেকার ভাবটা ততদিনে প্রবলভাবে জেঁকে বসেছে। সিভি ড্রপ করা ছাড়া তেমন কোনো কাজ নাই। কিছু ইন্টারভিউ দিলাম। কিন্তু, ব্যাট-বল মিলিয়ে জয়েনিং হচ্ছে না। রোজ সকালে ১০টায় ঘুম থেকে উঠি। এরপর রাজসিক ভাব নিয়ে নাস্তা করি। এরপর টুক-টাক কাজ, নাহলে ব্রাউজিং। বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়া হয়েছে। দারুন সব সুবিধা। আইএসপির সার্ভার থেকে সরাসরি মুভী চালানো যায় রিয়েল প্লেয়ারে। হাজারখানেক মুভীর বিশাল এক লাইব্রেরী। মুভী ভালো না লাগলে কিছুক্ষণ হাই তুলে ঘুমের প্ল্যান করি। এহেন বয়ে যাওয়া দিনে তেমন কোনো অভাব অনুভূত হয় না। আম্মা এসে মানিব্যাগে একসাথে বেশ কিছু টাকা রেখে যায়। সাবলম্বী ছাত্র জীবন থেকে হঠাৎ করেই বেকার জীবনে প্রবেশ হেতু সেই টাকা শেষ হয়ে গেলেও বলতে ইচ্ছা করে না।
এক শুক্রবার সকালে মৌচাক গন্তব্য করে বের হচ্ছি। মানিব্যাগ খুলে দেখি একটা মাত্র ২০ টাকার নোট সগৌরবে উঁকি দিচ্ছে। যথেষ্ট মনে করে পকেটে মানিব্যাগ চালান দিলাম। রিক্সা ভাড়া দিয়ে মৌচাকে নেমেছি। কাজ প্রায় শেষ এমন সময় রূপম ভাইয়ের ফোনঃ
- ‘ওই রুমন! আজকের ডেইলী স্টার দেখসো?’
- ‘নোপ বস। বাসায় প্রথম আলো রাখি।‘
- ‘হুম! ডেইলী স্টার কিনে ফেলো। অমুখ কোম্পানীর বিরাট সার্কুলার দিসে।‘
- ‘ওকি-ডোকি! ঠ্যাং-স’।
- ‘নো প্রব! একদিন সময় দাও। তোমারে নিয়ে খাইতে বের হবো।‘ [রূপম ভাই সবসময় খাবারের শিডিউল করে। ]
- ‘আমি তো অলয়েজ ফ্রি।‘
একটা ডেইলী স্টার কিনে ফেললাম। রয়ে যাওয়া ২ টাকার নোট আবার পকেটে চালান দিয়েছি। সার্কুলার দেখতে দেখতে সেগুনবাগিচার দিকে হাঁটা দিবো নাকি ক্যালকুলেশন করছি, মোড়ে বাস পেয়ে গেলাম। পল্টন নেমে পকেটের শেষ কাগুজ নোটটাও দিয়ে দিলাম। সেগুনবাগিচার দিকে হাঁটতে হাঁটতে মনে উচ্চ মার্গিক চিন্তা চলছে। কি মনে হল, খালি মানিব্যাগ বের করে আনলাম। ইউরেকা! মানিব্যাগের ছোট পকেটে ১ টাকা মূল্যের ১টি কয়েন!
হুবুহু এই সময়টা আর কখনো আসবে না; তাই, পরের ২ দিন ওইভাবেই রয়ে গেলাম। ঘরকুনো হয়ে থাকি, বাইরে বের হতে হলে শুধু ওই কয়েনটা নিয়েই বের হই। ঘুমিয়ে আছি, আম্মা এরমধ্যেই এক সকালে এসে এই অবস্থা দূর করে দিলেন।
*************
কাছের অনেক বন্ধুকেই অনুভূতিটা বলেছি, কেউ বুঝেছে, কেউ বোঝেনি। ১ মাস পর এখনকার অফিসে আমার জয়েনিং ডেট। এইচআর ডিপার্টমেন্টে বসে আছি, এক বন্ধু এসএমএস পাঠালো, “চিন্তা করে দেখ্! ওই এক টাকার সুখ আর কখখনো পাবি না! জয়েন করবি?? ঃ))”
*************
[সংক্ষেপিত।]
ছবিঃ [url=http://en.wikipedia.org/wiki/Creative_Commons_licenses]সিসিএল[/url]- এর নীতিমালার আওতায় ব্যবহৃত।"
কিভাবে গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপনের রং নির্ধারণ করবেন?
[b]How to choose color palettes for Google Adsense advertisement?[/b]
গুগল এডসেন্স থেকে সাফল্য না পাবার পেছনে অনেকগুলো কারনের মধ্যে দুইটি কারণ হল সঠিক স্থানে বিজ্ঞাপন না বসানো এবং বিজ্ঞাপনের সঠিক রং পছন্দ করতে না পারা। এ্যাড ব্লগ লিখেন আর ওয়েবসাইট বানান, মূল উদ্দেশ্য যদি থাকে টাকা কামানো তাহলে বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত রংয়ের দিকে নজর দিতে হবে। আজকের এই পোষ্টে বিজ্ঞাপনের রং পছন্দ করার বিষয়ে কিছুটা আলোচনা করতে চেষ্টা করব।
গবেষণায় দেখা গেছে, ওয়েবসাইটের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ এমন কোনো কনটেন্টই পাঠকরা পড়ে দেখে না কিংবা ক্লিক করে না। ঠিক এমনটাই ঘটে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে, বিজ্ঞাপনের রং যদি ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত রংয়ের সাথে মানানসই না হয়, তাতে ক্লিক পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
বিজ্ঞাপনের রংয়ের উপর ভিত্তি করে গুগল তিনটি পদ্ধতির কথা প্রস্তাব করেছে, এগুলো হলো – Blend Color Scheme, Complement Color Scheme এবং Contrast Color Scheme।
[b][color=red]Blend Color Scheme[/color][/b]
এই পদ্ধতিটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। এই পদ্ধতি অনুসারে বিজ্ঞাপনের বর্ডার এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের রং বিজ্ঞাপন বসানোর স্থানের সাথে মিলিয়ে রাখতে হয়। ফলে যে স্থানেই বিজ্ঞাপনটি বসানো হোক না কেন বিজ্ঞাপনটি ওয়েবসাইটের ডিজাইনের সাথে মিলে যায়।
আমি ব্যক্তিগতভাবে বিজ্ঞাপনকে আরো বেশি করে ওয়েবসাইটের ডিজাইনের সাথে মিলিয়ে দিতে চাই। এজন্য আমি ব্লগের শিরোনামের রংয়ের সাথে বিজ্ঞাপনের শিরোনামের রং, মূল ব্লগের লেখার রংয়ের সাথে বিজ্ঞাপনের লেখার রং এবং ব্লগে ব্যবহৃত লিংকের সাথে বিজ্ঞাপনের লিংকের রং মিলিয়ে বসাই।
মনে রাখবেন, এই পদ্ধতিটি উদ্দেশ্য পাঠককে বিভ্রান্ত করা নয়, বরং পাঠককে বিজ্ঞাপনটি পড়ে দেখায় উৎসাহিত করা।
[img]http://bn.jinnatulhasan.com/wp-content/uploads/2009/10/google-adsense-blend-color-scheme.jpg[/img]
[b][color=red]Complement Color Scheme[/color][/b]
এই পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপনের রং বিজ্ঞাপন বসানোর স্থানের সাথে মানানসই নয়, কিন্তু ওয়েবসাইটেই ব্যবহার অন্য রংয়ের সাথে মানানসই। ধরুন যে স্থানে বিজ্ঞাপনটি বসাবেন, সে স্থানে আপনি ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ধূসর রং ব্যবহার করেছেন কিন্তু আপনার লোগোর রং লাল। সেক্ষেত্রে আপনি লোগোর রংয়ের সাথে রং মিলিয়ে বিজ্ঞাপনের ব্যাকগ্রাউন্ড এবং বর্ডারের রং লাল রাখতে পারেন।
এই ধরনের বিজ্ঞাপনগুলো header banner এবং মেনুর সাথে মিলিয়ে ব্যবহার করলে অধিক সাফল্য লাভ করা যায়। ধরুন ওয়েবসাইটের বামপাশে আপনার মেনুবার আছে, সেক্ষেত্রে ডানপাশে আপনি একই রং ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন বসাতে পারেন। উপরের চিত্রে ২য় এবং ৩য় বিজ্ঞাপন দুইটি Blend Color Scheme এবং ১ম বিজ্ঞাপনটি উভয়ের Complement।
[img]http://bn.jinnatulhasan.com/wp-content/uploads/2009/10/google-adsense-complement-color-scheme.jpg[/img]
[b][color=red]Contrast Color Scheme[/color][/b]
এই ধরনের বিজ্ঞাপন সবচেয়ে কম ব্যবহৃত হয়। তবে অনেক সময় এই বিজ্ঞাপনগুলোই অনেক সফলতা পায়। গুগলের মতে গাঢ় ব্যাকগ্রাউন্ডের ওয়েবসাইটেই এই রং ব্যবহার করা উচিত।
এই পদ্ধতি অনুসারে গাঢ় রংয়ের ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর যে রংটি বেশি চোখে পড়তে পারে, সেটা ব্যবহার করা হয়। যেমন কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর সাদা কিংবা হলুদ ব্যাকগ্রাউন্ড, লাল শিরোনাম, নীল রংয়ের লিংক। বেশ কিছুক্ষন খোঁজাখুঁজি করলাম, উদাহরণ খুঁজে না পেয়ে গুগলের ব্যবহৃত উদাহরনটিই ব্যবহার করলাম।
[img]http://bn.jinnatulhasan.com/wp-content/uploads/2009/10/google-adsense-contrast-color-scheme.jpg[/img]
[b]পোষ্টটির সূত্র [url=http://bn.jinnatulhasan.com/2009/10/1761]কিভাবে গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপনের রং নির্ধারণ করবেন?[/url][/b]"
সহজেই ব্যাবহার করুন আমেরিকা,ইল্যান্ড এর IP adress আর লুকান বর্তমান Ip Adress।
ভ্রমনের ছবি তোলার উপর ছোট ছোট ৭টি টিপস
ভ্রমনে বের হলে নতুন নতুন ছবি তোলার আইডিয়া মাথায় চলে আসে সহজেই। কয়েকটি টিপসের মাধ্যমে ভ্রমনের ছবিগুলোকে আরো আকষর্নীয় করে তোলা যায়। Photography শব্দটির গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ আলো দিয়ে ছবি আঁকা। আলোর ব্যবহারের উপরেও কিছু কথা আছে এ টিউটরিয়ালটিতে। কিছু আইডিয়া এখান থেকে অনুবাদ করেও প্রকাশ করছি।
ভ্রমনের সুন্দর সুন্দর ছবি তুলুনঃ
আপনার পরিচিত ফটোগ্রাফার থাকলে তাদের সাথে দেখা করতে পারেন, তাদের ভ্রমনের আর ছবি তোলার অভিজ্ঞতা শুনে নিন।
ভ্রমনে ছবি তুলতে গেলে ছবি তোলার উপর বিধি নিষেধগুলো মেনে চলতে হবে। সব স্থানের ছবি তোলার অনুমোতি নাও থাকতে পারে।
আরেকটা ব্যাপার হলো সব জায়গার লোকজন তাদের ছবি তোলা পছন্দও করে না। আমাদের দেশের বা দক্ষিন এশিয়ার লোকেরা ছবি কোন পর্যটকের সাথে ছবি তোলতে আগ্রহী হয়।
নিজের দামি ছবি তোলার সরঞ্জামগুলোর দিকে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। ভ্রমনে বের হলে এসব চুরি হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
উজ্জ্বল আলোর ব্যবহারঃ
ঐতিহাসিক কোন অবস্থান বা কোন পোড়া কির্তির ছবি তোলতে উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করুন। বিষয় বস্তুটিকে সঠিকভাবে অনুভব করার জন্য উজ্জ্বল আলো দরকার।
বিকেলের আলোঃ
দুপুরের আলো ছবি তোলার জন্য সবচেয়ে বাজে। সাধারন ছবিগুলো বিকেলে তোলা যেতে পারে। ঝড়,বৃষ্ট বা সূযর্স্তের সময় দারুন দারুন ছবি তোলা যেতে পারে।
বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে ছবি তোলাঃ
একটি অবস্থানের ছবি বিভিন্ন ভাবে তোলা যেতে পারে-সোজা,কোনাকুনি,বিভিন্ন আলোতে,ভিন্নভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডে তুললে অদ্ভুত ভিন্নতা দেখা যায়। নিজের চিন্তা মতো না করে ক্যামেরাটি অন্যকে দিয়েও ছবি তোলে নিতে পারেন।
বিষয় অনুসন্ধানঃ
অপরিচিত,আনকমন নতুন নতুন বিষয় খুজে নিতে পারেন। আবার অতি সাধারন জিনিসের মধ্যে থাকতে পারে অসাধারন বৈচিত্রময়তা আমি তরকারীর খোসা , শস্য বীজের আলোর ঝলক ইত্যাদি অনেক সাধারন ছবিই দেখেছি যা অসাধারন লেগেছে।
অতি সাধারন জায়গা নির্বাচনঃ
আমাদের আসে পাশে অনেক জায়গা আছে যেখানে খুব কোন টুরিস্ট যায় না । সেসব যায়গা ভ্রমন করেও পেতে পারেন মূল্যবান কিছু ছবি তোলার উপাদান।
রাতের ছবিঃ
রাতে ছবি তোলা শিখুন। দিনের কোলাহলমুক্ত নিরব রাতের শহরের ভৌতিক ছবি অনেকের মন টানে। রাতের প্রকৃতির মায়ার কাছে হার মেনেছে অনেকেই।